, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আসন্ন গাজীপুর সিটি নির্বাচন: বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী, জামায়াতের একক প্রার্থী গাজীপুরে গরু চুরি: উদ্ধার না হলেও মামলার গ্যাঁড়াকলে বাদী, নাটের গুরু শ্রমিক দল নেতা বাবুল নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফের কমলো বিশ্ববাজারে তেলের দাম | ভাঙাগড়া সরকারের খাল খনন বিশাল পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ভেস্তে যাওয়ার সঙ্কা | ভাঙাগড়া এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম | ভাঙাগড়া ময়মনসিংহে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের দুই দিনের প্রশিক্ষণ শুরু ভারতের বিরুদ্ধে ‘চক্রান্তের’ অভিযোগ রিজভীর: ব্রিকস, আদানি বিদ্যুৎ ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ রাজধানীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক ১১ তারেক রহমানের চূড়ান্ত তদারকিতে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, ঘোষণার প্রাক্কালে যাদের নাম আলোচনায়

আসন্ন গাজীপুর সিটি নির্বাচন: বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী, জামায়াতের একক প্রার্থী

দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মতোই গাজীপুর সিটি করপোরেশনেও বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আগামী ২০২৭ সালের শুরুর দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি সামনে রেখে এগোচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান পোক্ত করতে মাঠপর্যায়ে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির প্রস্তুতি ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

দেশের সবচেয়ে বড় এই সিটি করপোরেশনে বিএনপির স্থায়ী সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। দলটি তাদের হারানো দুর্গ পুনর্দখলে মরিয়া। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারো নাম চূড়ান্ত প্রার্থীরূপে ঘোষণা করা হয়নি।

বর্তমানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সমর্থকদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও দল থেকে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

শওকত হোসেন সরকার ছাড়াও বিএনপির দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন একঝাঁক জ্যেষ্ঠ ও স্থানীয় নেতা:

হাসান উদ্দিন সরকার: বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়রপ্রার্থী।

অ্যাডভোকেট ড. শহীদুজ্জামান: গাজীপুর বারের সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি।

আফজাল হোসেন কায়সার: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি।

হান্নান মিয়া হান্নু: মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর।

হাসান আজমল ভূঁইয়া: মেট্রো থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর।

অন্যান্য দলের প্রার্থীর চিত্র

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: জামায়াত ইতোমধ্যে তাদের একক প্রার্থী হিসেবে ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে। তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার তাঁর নাম উন্মোচন করেন। তিনি তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): দলটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। গাজীপুর-২ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান মেয়রের পদে লড়তে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও বিগত তিন নির্বাচনের চিত্র

২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি নিকার (NICAR) সভায় গাজীপুর ও টঙ্গী পৌরসভা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন ইউনিয়ন সমন্বয়ে ৩২৯.৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নতুন সিটি করপোরেশন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। একই বছরের ১৬ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দেশের ১১তম সিটি করপোরেশন হিসেবে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

১. প্রথম নির্বাচন (৬ জুলাই ২০১৩)

মোট ভোটার: ১০,২৬,৯৩৮ জন।

ফলাফল: বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান (টেলিভিশন প্রতীক) ৩,৬৫,৪৪৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান পান ২,৫৮,৮৬৭ ভোট।

ভোটের ব্যবধান: ১,০৬,৫৭৭।

২. দ্বিতীয় নির্বাচন (২৬ জুন ২০১৮)

মোট ভোটার: ১১,৩৭,১১২ জন।

ফলাফল: দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা) ৪,০০,০১০ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ) পান ১,৯৭,৬১১ ভোট।

ভোটের ব্যবধান: ২,০২,৩৯৯। (রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল)।

৩. তৃতীয় নির্বাচন (২৫ মে ২০২৩)

মোট ভোটার: ১১,৭৯,৪৭৬ জন (পুরুষ: ৫,৯২,৭৬২; নারী: ৫,৮৬,৬৯৬; তৃতীয় লিঙ্গ: ১৮)।

পরিস্থিতি: বিএনপির বর্জনের কারণে মূল লড়াই হয় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে।

ফলাফল: স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন ২,৩৮,৯৩৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: আওয়ামী লীগের আজমত উল্লা খান পান ২,২২,৭৩৭ ভোট।

ভোটের ব্যবধান: ১৬,১৯৭।

পরবর্তী তফসিল ঘোষিত হলে গাজীপুরের নির্বাচনী ময়দানে রাজনৈতিক দলগুলোর চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয়

আসন্ন গাজীপুর সিটি নির্বাচন: বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী, জামায়াতের একক প্রার্থী

error: Content is protected !!

আসন্ন গাজীপুর সিটি নির্বাচন: বিএনপিতে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী, জামায়াতের একক প্রার্থী

প্রকাশের সময় : ৭ মিনিট আগে

দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মতোই গাজীপুর সিটি করপোরেশনেও বর্তমানে প্রশাসকের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আগামী ২০২৭ সালের শুরুর দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি সামনে রেখে এগোচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান পোক্ত করতে মাঠপর্যায়ে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির প্রস্তুতি ও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

দেশের সবচেয়ে বড় এই সিটি করপোরেশনে বিএনপির স্থায়ী সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। দলটি তাদের হারানো দুর্গ পুনর্দখলে মরিয়া। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপি কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারো নাম চূড়ান্ত প্রার্থীরূপে ঘোষণা করা হয়নি।

বর্তমানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সমর্থকদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও দল থেকে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

শওকত হোসেন সরকার ছাড়াও বিএনপির দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন একঝাঁক জ্যেষ্ঠ ও স্থানীয় নেতা:

হাসান উদ্দিন সরকার: বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়রপ্রার্থী।

অ্যাডভোকেট ড. শহীদুজ্জামান: গাজীপুর বারের সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি।

আফজাল হোসেন কায়সার: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি।

হান্নান মিয়া হান্নু: মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর।

হাসান আজমল ভূঁইয়া: মেট্রো থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও তিনবারের সাবেক কাউন্সিলর।

অন্যান্য দলের প্রার্থীর চিত্র

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: জামায়াত ইতোমধ্যে তাদের একক প্রার্থী হিসেবে ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের নাম ঘোষণা করেছে। তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার তাঁর নাম উন্মোচন করেন। তিনি তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): দলটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। গাজীপুর-২ আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান মেয়রের পদে লড়তে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও বিগত তিন নির্বাচনের চিত্র

২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি নিকার (NICAR) সভায় গাজীপুর ও টঙ্গী পৌরসভা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন ইউনিয়ন সমন্বয়ে ৩২৯.৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নতুন সিটি করপোরেশন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। একই বছরের ১৬ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দেশের ১১তম সিটি করপোরেশন হিসেবে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

১. প্রথম নির্বাচন (৬ জুলাই ২০১৩)

মোট ভোটার: ১০,২৬,৯৩৮ জন।

ফলাফল: বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান (টেলিভিশন প্রতীক) ৩,৬৫,৪৪৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান পান ২,৫৮,৮৬৭ ভোট।

ভোটের ব্যবধান: ১,০৬,৫৭৭।

২. দ্বিতীয় নির্বাচন (২৬ জুন ২০১৮)

মোট ভোটার: ১১,৩৭,১১২ জন।

ফলাফল: দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা) ৪,০০,০১০ ভোট পেয়ে জয়ী হন।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ) পান ১,৯৭,৬১১ ভোট।

ভোটের ব্যবধান: ২,০২,৩৯৯। (রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল)।

৩. তৃতীয় নির্বাচন (২৫ মে ২০২৩)

মোট ভোটার: ১১,৭৯,৪৭৬ জন (পুরুষ: ৫,৯২,৭৬২; নারী: ৫,৮৬,৬৯৬; তৃতীয় লিঙ্গ: ১৮)।

পরিস্থিতি: বিএনপির বর্জনের কারণে মূল লড়াই হয় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে।

ফলাফল: স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন ২,৩৮,৯৩৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: আওয়ামী লীগের আজমত উল্লা খান পান ২,২২,৭৩৭ ভোট।

ভোটের ব্যবধান: ১৬,১৯৭।

পরবর্তী তফসিল ঘোষিত হলে গাজীপুরের নির্বাচনী ময়দানে রাজনৈতিক দলগুলোর চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।